১৯শে
মার্চ, শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিএনপি’র ৬ষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল সভা। দলটির গঠনতন্ত্র
অনুযায়ী দলের একটি জাতীয় কাউন্সিল থাকবে এবং সম্ভব হলে বছরে অন্তত একটি জাতীয়
কাউন্সিল সভা অনুষ্ঠিত হবে।
গঠনতন্ত্রের
ধারা ৬ এর ১০ উপধারায় জাতীয় কাউন্সিল বিষয়ে বলা হয়েছে। কাউন্সিলের সদস্য কারা
হবেন, কাউন্সিলের কাজ কি হবে, কমিটি কিভাবে গঠিত হবে ইত্যাদি বিষয়ে এই ধারায় বলা
আছে।
জাতীয়
স্থায়ী কমিটি এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটি’র সদস্যদের নির্বাচিত করা, গঠনতন্ত্র
সংশোধন করা জাতীয় কাউন্সিলের অন্যতম কাজ। জাতীয় কাউন্সিলের এক তৃতীয়াংশ সদস্যের প্রস্তাবে
কাউন্সিলে যে কোন প্রস্তাব উপস্থাপিত হতে পারে।
জাতীয়
কাউন্সিলে দলের চেয়ারম্যান গুরুত্বপূর্ণ যেকোন জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে কাউন্সিলের সদস্যদেরকে নিয়ে কমিটি গঠন করতে
পারেন।
গঠনতন্ত্রের
৬ ধারায় জাতীয় কাউন্সিল সভা সম্পর্কে বলা হয়েছে।
দলের মহাসচিব দলের চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে
জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করে থাকেন। কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিল সভায় উপস্থিত থেকে কোরাম গঠন করতে পারেন।
সাধারণ ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে
সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে লিখিতভাবে কাউন্সিলরদের উপস্থিত হওয়ার জন্য বলতে হয়।
সম্ভব হলে বছরে অন্ততঃ একবার জাতীয় কাউন্সিল সভা করা যায়। কিন্তু প্রতি তিন বছর পর পর সাধারণত বিএনপি’র কাউন্সিল হয়ে থাকে। বিভিন্ন
প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জাতীয় কাউন্সিল সভা নিয়মিত করা যায়নি।
আবার জাতীয় কাউন্সিলের
মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশের) দাবিতে অনুরুপভাবে
সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের ‘দাবী সভা’ অনুষ্ঠান করা যায়। তবে এ সভার নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবীর বিষয়বস্তু উল্লেখ
থাকতে হয়। এরূপ সভায় মোট
কাউন্সিলরদের ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশের) ভোট দাবীর পক্ষে না পাওয়া
গেলে দাবীটি বাতিল হয়ে যায়।
বিএনপি’র
গঠনতন্ত্রের ৬ ধারা ও এর অধীন উপধারায় জাতীয় কাউন্সিল সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা
নিচে উপস্থাপন করা হলো।
১০ (৬) জাতীয় কাউন্সিল
(ক) ‘জাতীয় কাউন্সিল’ নামে দলের একটি
জাতীয় কাউন্সিল থাকবে যার গঠন পদ্ধতি নিম্নরূপ হবেঃ
(১) প্রতি উপজেলা/থানা নির্বাহী
কমিটির
(মহানগর থানাসহ) সভাপতি ও সাধারণ
সম্পাদক;
(২) প্রতি পৌরসভার
নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;
(৩) প্রতি জেলা নির্বাহী
কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;
(৪) প্রতি মহানগর নির্বাহী
কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক;
(৫) প্রতি জেলা ও মহানগর
নির্বাহী কমিটি কর্তৃক মনোনীত প্রতি জেলা ও মহানগর হতে দুইজন মহিলা সদস্য;
(৬) পার্লামেন্টারী
পার্টির সদস্যবৃন্দ;
(৭) জাতীয় নির্বাহী
কমিটির সদস্যবৃন্দ;
(৮) জাতীয় স্থায়ী কমিটির
সদস্যবৃন্দ;
(৯) চেয়ারম্যান কর্তৃক
মনোনীত উপরে বর্ণিত ১ হতে ৮ এর মোট
সদস্য সংখ্যার শতকরা
১০ ভাগ ।
(খ) জাতীয় কাউন্সিলের
দায়িত্ব ও ক্ষমতা নিুরুপ হবেঃ
(১) জাতীয় স্থায়ী কমিটি
কর্তৃক নির্ধারিত ও প্রবর্তিত দলের নীতি ও কর্মসূচী বাস্তবায়ন ও কার্যকরী করা;
(২) দলের জাতীয় স্থায়ী
কমিটির সদস্যগণ এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা ও সদস্যগণের নির্বাচন
অনুষ্ঠান করা।
(৩) দলের গঠনতন্ত্র
সংশোধন করা;
(৪) দলের চেয়ারম্যান
কর্তৃক প্রেরিত যে কোন বিষয় বিবেচনা করা;
(৫) মহাসচিবের রিপোর্ট
বিবেচনা করা ও গ্রহণ করা;
(৬) জাতীয় কাউন্সিলের ১/৩ (এক তৃতীয়াংশ) সদস্যদের প্রস্তাবিত
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা।
(গ) বিষয় কমিটি
দলের চেয়ারম্যান
গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনবোধে জাতীয় কাউন্সিলের
সদস্যবৃন্দের মধ্য থেকে কয়েকজন সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন বিষয় কমিটি মনোনীত
করতে পারবেন।অন্যান্য বিষয়ের
মধ্যে যে সমস্ত বিষয়ে এ ধরণের কমিটি গঠিত হতে পারে সেগুলো হচ্ছেঃ জাতীয় পরিকল্পনা
ও অর্থ,
স্বাস্থ্য ও
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ;
বন্যা নিয়ন্ত্রণ;পল্লী উন্নয়ন, খাদ্য ও কৃষি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও
শিক্ষা,
শ্রম কল্যাণ, মহিলা, যুব সম্প্রদায়, আন্তর্জাতিক বিষয় ও
শিশু কল্যাণ।এই সমস্ত কমিটি
সমূহে দলের সদস্য নন অথচ বিশেষ ক্ষেত্রে পারদর্শী, যোগ্যতাস¤পন্ন ও সুদক্ষ এমন ব্যাক্তিদেরকেও কো-অপ্ট করা যাবে, তবে কোন অবস্থাতেই
এদের সংখ্যা কমিটির নির্ধারিত মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশের বেশী হবে না।কমিটিতে কো-অপ্ট করা সদস্যবৃন্দ কমিটির অন্যান্য
সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন।
গঠনতন্ত্রের ৯ ধারায় বলা
হয়েছে -
৯(ক) জাতীয় কাউন্সিল
দলের মহাসচিব দলের
চেয়ারম্যানের লিখিত পরামর্শক্রমে জাতীয় কাউন্সিলের সভা আহবান করতে পারবেন।কাউন্সিলের মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশ) সদস্য কাউন্সিলের
সভার কোরাম গঠন করবে।লিখিতভাবে সাধারণ
ডাকে কিংবা পিয়ন মারফত কিংবা সংবাদপত্রের মাধ্যমে সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে সম্ভব
হলে বছরে অন্ততঃ একবার জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে।অনুরুপভাবে সুস্পষ্ট ৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের জরুরী
সভা অনুষ্ঠিত হতে পারবে।জাতীয় কাউন্সিলের
মোট সদস্য সংখ্যার ১/৩ (এক-তৃতীয়াংশের) দাবিতে অনুরুপভাবে
সুস্পষ্ট ১৫ দিনের নোটিশে কাউন্সিলের ‘দাবী সভা’ অনুষ্ঠান করা যাবে।তবে এ সভার নোটিশে সুস্পষ্টভাবে দাবীর বিষয়বস্তু উল্লেখ
থাকতে হবে।এরূপ সভায় মোট
কাউন্সিলরদের ২/৩ (দুই-তৃতীয়াংশের) ভোট দাবীর পক্ষে না
পাওয়া গেলে দাবীটি বাতিল হয়ে যাবে।

No comments:
Post a Comment